জাতীয়

সংঘাত-সহিংসতার মধ্যদিয়েই দলীয় প্রতীকে ইউপিতে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ শুরু

বাংলার দিগন্ত ডেস্ক:

হামলা-ভাঙচুর, সংঘর্ষ-গোলাগুলি, নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারণায় বাধা, ভয়-ভীতি, হুমকি-ধামকি, হতাহত আর নানা শঙ্কার মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে প্রথমবারের মতো দেশের ৩৪টি জেলার ৭৩৪টি ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় প্রতীকে ভোটগ্রহণ।মঙ্গলবার সকাল ৮ টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলবে একটানা বিকেল ৪ টা পর্যন্ত।

এটি স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তরের সবচেয়ে বড় নির্বাচন হওয়ায় দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের মাঝে যে ধরনের উৎসব আমেজ বিরাজ করার কথা ছিল তা এখন নেই। ইতিমধ্যেই সারা দেশে ব্যাপক হারে সহিংসতায় নিহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাই সাধারণ তথা ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী আনন্দ উৎসবের পরিবর্তে বিরাজ করছে এক অজানা ভয় ও আতঙ্ক।এরই মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেক স্থানে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার কারণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি প্রার্থীদের নানাভাবে নির্বাচনী প্রচারকাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, সরকার এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পাওয়ায় অনিয়ম-সহিংসতা ঠেকাতে পারেনি বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন।

সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারও (সিইসি) ভোটপূর্ব সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে এ নির্বাচনী সহিংতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি খোলাখুলিই বলেছেন, ‘নির্বাচনী সহিংসতা আমরা কমিয়ে আনতে পারছি না। কারণ অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের কাছ থেকে কাঙ্খিত সহযোগিতা পাচ্ছি না।’

সিইসি বলেন, ‘কোনো কেন্দ্রে ভোট কারচুপি ও সহিংসতা হলে ওই কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়ী হবেন।’

সিইসির এই অসহায়ত্ব প্রকাশের পর থেকে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কি না এনিয়ে তারা শঙ্কায় আছেন। আর এ অবস্থায় আজকের নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে তা নিয়ে ভোটারদের পাশাপাশি প্রার্থীরাও শঙ্কায় আছেন।তারপরও প্রার্থী ও ভোটাররা আশা করছেন নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার সবটুকুই প্রয়োগ করবে।

এদিকে, নির্বাচনের কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী এলাকায় মাঠে টহল শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), পুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক লাখ ৮০ হাজার সদস্য। একই সঙ্গে ৩৪ জেলার ১০১টি উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি বিচারিক হাকিমরাও অপরাধ তদারকিতে মাঠে রয়েছেন।
চেয়ারম্যান পদে তিন হাজার ৩৪ জনসহ মোট ৩৬ হাজার ৪৫৬ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে প্রায় সাত হাজার ৮৭টি কেন্দ্রে এক লাখ ২১ হাজার ১৯৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন বলে ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ব্যালট পেপারসহ সব ধরনের নির্বাচনী সামগ্রী সোমবারের মধ্যেই প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে।

 

মন্তব্য

আপনার ইমেইল প্রচার করা হবে না.

All Replys