আন্তর্জাতিক

যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও ছড়াচ্ছে জিকা ভাইরাস

বাংলার দিগন্ত,অনলাইন ডেস্কঃ

শুধু মশার কামড়ে নয়, যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও ছড়াচ্ছে জিকা ভাইরাস। নতুন এক মার্কিন গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজেস কন্ট্রোল বিবিসিকে জানিয়েছে, টেক্সাসের ডালাসে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে দেখা যায়, কোনো মশার কামড়ে নয়, বরং আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সংসর্গের কারণেই এ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।

ওই রোগী নিজে জিকা ভাইরাস-অধ্যুষিত অঞ্চলে যাননি। কিন্তু তাঁর সঙ্গী সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা থেকে এসেছেন।

বিবিসি বলছে, যদি জিকা ভাইরাস যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়াতে শুরু করে, তাহলে এটি শুধু আক্রান্ত দেশগুলোর জন্যই হুমকি নয়; বরং বিশ্বের সব দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে কর্তৃপক্ষ ও গবেষকরা বলছেন, যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে এ ভাইরাসের সংক্রমণ হওয়াটা বিরল ঘটনা। তবে এটাও ঠিক যে গত বছর এই গবেষকরাই বলেছিলেন, জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও বিরল। 

এ মুহূর্তে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে জিকা ভাইরাস ছড়ানোর বিষয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠে আসছে। সেসব প্রশ্নের জবাব পাওয়া গেলে হয়তো সাবধানতা অবলম্বন করতে সুবিধা হবে। 

এটি এইচআইভি বা এইডসের মতো ভয়াবহ কি না—সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি অতটা ভয়াবহ নয়। মূলত গর্ভবতী নারীদের জন্যই জিকা হুমকিস্বরূপ। 

অস্ট্রেলিয়ায়ও জিকা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার দুটি খবর পাওয়া গেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, সিডনির দুজন নাগরিক ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে অস্ট্রেলিয়া ফেরার পর তাঁদের শরীরে এ ভাইরাসের লক্ষণ ধরা পড়ে।

এর মধ্যে ব্রাজিলে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ভাইরাস আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায়। প্রায় তিন হাজার ৬৭০ শিশুর মধ্যে জিকার সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত ৪০৪টি জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জিকা এক ধরনের মশাবাহিত ভাইরাস। এর প্রভাবে বিশ্বের আক্রান্ত অঞ্চলগুলোর হাজার হাজার শিশু অপরিণত মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জিকা ভাইরাসের কারণে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

মন্তব্য

আপনার ইমেইল প্রচার করা হবে না.

All Replys